মোটরযান পরিদর্শক আলাউদ্দীনের ছত্রছায়ায় চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালদের আধিপত্য

কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ছয় বছরের রামরাজত্ব
দালালি, ঘুষ বাণিজ্য ও কর্মকর্তাদের কব্জির জোরে গ্রাহক সেবা ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ বিআরটিএর চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের। সংস্থাটিকে দালালমুক্ত করে গ্রাহক সেবা নিশ্চিতে সদর কার্যালয়ের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকলেও দালালদের আধিপত্য, কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্য এবং কব্জির জোরে পছন্দের সার্কেলে বদলি কোনোটাই নিয়স্ত্রণ করছে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি ।
চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র দালাল সিন্ডিকেটের আধিপত্য কোনোভাবেই দমন হচ্ছে না। এই সিন্ডিকেটের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে সংস্থাটির মোটরযান পরিদর্শক মোঃ আলাউদ্দীন। গ্রাহক সেবা প্রদানে ঘুষ বাণিজ্যের পরেও নিয়ন্ত্রিত দালালদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা পান তিনি।
সূত্র বলছে, ২০২১ সালের ৫ই ডিসেম্বর ২০১০ সংখ্যক স্মারকের অফিস আদেশ মোতাবেক আলাউদ্দীনকে বিআরটিএ’র চট্ট মেট্রা-২ সার্কেলে বদলি করে আদেশ জারি করেছিলেন সংস্থাটির সাবেক উপ পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ১৩৮ নং অফিস আদেশে কর্র্তৃপক্ষ তাকে চাঁদপুর সার্কেলে বদলি করে। কিন্তু আট মাসের মাথায় সংস্থাটির কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চাঁদপুর থেকে বিআরটিএর সদর কার্যালয়ে বদলি হয়ে যায়। বদলি আদেশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলে সংযুক্তির আদেশ করিয়ে নেয় এই কর্মকর্তা।
বিআরটিএ’র সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলে মোটরযান পরিদর্শকের দুইটি পদ রয়েছে। সে পদগুলোতে কর্র্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর বিআরটিএর নড়াইল সার্কেল থেকে মোটরযান পরিদর্শক ফরহাদ হোসেনকে চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলে বদলি করে। ২০২৬ সালের ৫ জুলাই আরেক আদেশে চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের শূণ্য পদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক রাসন চাকমাকে চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলে বদলি করে সংস্থাটি।
তবে দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক মোটরযান পরিদর্শক আলাউদ্দীনের সংযুক্তির অর্ডারটি বাতিল করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বিআরটিএর প্রশাসন বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একদিকে দালাল নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে দায় মুক্তির চেষ্টা করলেও দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেই বিআরটিএর চেয়ারম্যানের।
বিআরটিএর তথ্য বলছে, মোঃ আলাউদ্দীন চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের ফিটনেস শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। গত ১লা জুন থেকে গত ১২ই আগস্ট পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায় তিনি অফিসের কোনো দায়িত্ব পালন না করেই শুধুমাত্র সিনিয়র কর্মকর্তাদের তোষামোদি ও দালাল নিয়šত্রণ এবং ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় শুধুমাত্র ৩০ শে জুন তারিখে তিনি ৩৮টি মোটরযানের ফিটনেস সনদ ইস্যু করেছেন। বিআরটিএর সদর কার্যালয়ের আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মাসুদ আলম ও চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের উপ পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মাহাবুব কবির কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মোটরযান পরিদর্শক পদে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ বিআরটিএতে যোগদান করেন মোটরযান পরিদর্শক আলাউদ্দীন। সে সময়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড-১) নুর মোহাম্মদ মজুমদার। আলাউদ্দীনের বাড়ি চেয়ারম্যানের নিজ জেলা ফেনিতে হওয়ায় বিশেষ সুবিধায় নিয়োগকালীন প্রথম পোস্টিং পান চট্ট মেট্রো-২ সার্কেলে। সে সময়ে চট্ট মেট্রো-২ সার্কেলের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী পরিচলক (ইঞ্জিঃ) তৌহিদুল হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের দায়িত্বে ছিলেন রায়হানা আক্তার উর্থী। এই সকল কর্মকর্তাদের বাড়িও ফেনি জেলায় হওয়ায় চট্টগ্রাম বিআরটিএতে ভয়ংকর এক দালাল সিন্ডিকেট তৈরি করে রাম রাজত্ব কায়েম করেছিলেন মোটরযান পরিদর্শক আলাউদ্দীন।
২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ফেনি-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং ফেনি জেলার সিনিয়র কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি, দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। বর্তমানেও একই রকমভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এই বিষয়ে সংস্থাটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মাসুদ আলমকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।










